গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন
সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
ডেইলি সান রিপোর্ট, বরিশাল
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে এক আন্তধর্মীয় সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চাও হয়ে আসছে। আন্তধর্মীয় এই সংলাপে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন করছে। দেশটির অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা। প্রতিটি মানুষ যেন কোনো ভয়ভীতি বা নিপীড়ন ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে—যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই এ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেও জানান তিনি।
উৎসবের সর্বজনীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উৎসব সবার জন্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা ঈদ, দেওয়ালি, ক্রিসমাস ও ইস্টারের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করি। এসব আয়োজন বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় গুরুদের অবদান অপরিসীম। স্থানীয় কোনো ধর্মীয় বিরোধ যেন বড় কোনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
বাংলাদেশের ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ ধারণার প্রশংসা করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।
আন্তধর্মীয় সংলাপে স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পুরোহিত ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে সভায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের উপাচার্য রেভারেন্ড ড. পলাশ রায়সহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল সফরের দ্বিতীয় দিনে গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি গৌরনদীর সরিকল এলাকায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ, আইড়সহ বিভিন্ন মাছের পদ, ভর্তা-ভাজি ও স্থানীয় মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের আগে মন্ত্রীর বাড়ির আঙিনায় একটি গাছের চারাও রোপণ করেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। তার এ সফরে কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।