‘বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার মনে করে অস্ট্রেলিয়া’
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা সংকট, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম, জনশক্তি রপ্তানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জুলিয়ান হিল বলেন, “বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার মনে করে এবং ভবিষ্যতে এ অংশীদারত্ব আরও বিকশিত হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে।
বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। তিনি বালি প্রসেসের আওতায় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জুলিয়ান হিল বাংলাদেশের নতুন মানবপাচারবিরোধী আইনের প্রশংসা করে এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ও কার্যকর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইস্যুটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে গত জুনে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।