যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর: স্বাধীনতা, অংশীদারত্ব ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বার্তা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
ছবি: কামরুল ইসলাম রতন
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
বার্তায় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সেই ঘোষণা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কঠিন। ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী ৫৬ জন প্রতিষ্ঠাতা নেতা জানতেন, ব্যর্থ হলে তাদের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। তবু তারা নিজেদের আদর্শ ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে এই নীতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র একা নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশের সরকার নিজ নিজ জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এ কারণে উভয় দেশের জন্য লাভজনক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি এবং মে মাসে জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যতের নতুন অংশীদারত্ব, উদ্ভাবন এবং কূটনৈতিক সহযোগিতারও নতুন সূচনা।
রাষ্ট্রদূত জানান, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্রিডম ২৫০’ বৈশ্বিক উদ্যোগের আওতায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তির আদর্শকে উদযাপনের পাশাপাশি আগামী দিনের সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বার্তার শেষাংশে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহজুড়ে আয়োজিত ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ এবং ২০২৬ সালব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব ও অভিন্ন ভবিষ্যতের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনেও আরও গভীর হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী।