সংস্কৃতি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস ফরাসি রাষ্ট্রদূতের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। আজ সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আশ্বাস দেন।
রবিবার (১৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংস্কৃতি মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফরাসি সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং যুগ্ম সচিব ইলিয়া সুমনাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম বড় শক্তি। এই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ফ্রান্স। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যুবসমাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত ফরাসি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ফ্রান্স ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ১৯৮৭ সালের ১০ মার্চ স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নবায়ন ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, চুক্তিটি হালনাগাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এ সহযোগিতা চুক্তি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যৌথ গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চুক্তিটি পুনর্নবায়নের উদ্যোগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার ও চট্টগ্রামের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, তরুণদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।