লন্ডনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত, ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার ডাক
বহুভাষিকতা কেবল সাংস্কৃতিক পরিচয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতির প্রধান ভিত্তি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ এমপি এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা একমত পোষণ করেছেন যে, বহুভাষিকতা কেবল সাংস্কৃতিক পরিচয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতির প্রধান ভিত্তি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের একটি কমিটি কক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার আবিদা ইসলাম ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি প্রদানে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই বিশ্বজুড়ে ভাষাগত অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউসিএল-এর অধ্যাপক ঝু হুয়া। তিনি মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বহুভাষিকতা শুধু ‘আমি’ হওয়া নয়—বরং ‘আমরা’কে কল্পনা করা। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
এ সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের নিজ নিজ দেশের বহুভাষিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
উত্তর মেসিডোনিয়া: রাষ্ট্রদূত ক্যাটেরিনা স্তাভরেস্কা জানান, তার দেশে মেসিডোনীয়সহ আলবেনীয়, তুর্কি ও রোমানি ভাষাভাষীরা সহাবস্থান করছে। তিনি মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
কোস্টা রিকা: রাষ্ট্রদূত রাফায়েল অর্তিজ ফাব্রেগা বলেন, আদিবাসী ভাষার সুরক্ষা তাদের জাতীয় অগ্রাধিকার। এটি সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে।
ইন্দোনেশিয়া: রাষ্ট্রদূত দেশরা পারচায়া বলেন, ৭০০-রও বেশি ভাষা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য' বজায় রেখেছে।
ঘানা: হাই কমিশনার সাবাহ জিতা বেনসন প্রায় ৮০টি আদিবাসী ভাষার কথা উল্লেখ করে ভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— রুপা হক, রুশনারা আলী, শওকত অ্যাডাম, মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং ইমরান হুসেইন। এছাড়া লর্ড রামি রেঞ্জার তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে ছিল এই ভাষা আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র মানুষকে বৈষম্যের শিকার করে, তারা কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এক অনন্য আবহের সৃষ্টি হয় যখন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশরা পারচায়া ও তার সহকর্মী মার্লন গ্যাব্রিয়েল জন লেননের বিখ্যাত ‘ইম্যাজিন’ গানটি স্যাক্সোফোনে পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্যারোনেস মঞ্জিলা উদ্দিন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।