EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং প্রভাতফেরির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দূতাবাসে স্থাপিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ইউনেস্কো জেনারেল কনফারেন্সের সভাপতির একটি বিশেষ ভিডিয়ো বার্তাও প্রদর্শিত হয়।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তার স্বাগত বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মানসম্মত শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘Youth voices on multilingual education’- এর কথা উল্লেখ করে তিনি ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে নেপালের কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সার্ক সচিবালয় ও ICIMOD-এর প্রতিনিধি, ইউনেস্কো নেপাল প্রধানসহ বিভিন্ন দেশের মিশনপ্রধান ও কূটনীতিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউনেস্কো প্রধান এবং ফিনল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, ভারত ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্য প্রদান করে ভাষাগত বৈচিত্র্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বক্তাগণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আলোচনা পর্বের পর একটি বহুভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে নেপালের তিনটি ভাষায় (নেপালি, নেওয়রি ও তামাং) এবং বাংলা ভাষায় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে নেপালের ঐতিহ্যবাহী থারু নৃত্যও পরিবেশিত হয়। কাঠমান্ডুর একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার দ্বারা পরিবেশিত নৈশভোজ উপভোগ করেন।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, ব্যবসায়ী এবং নেপাল-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন