ফরিদপুরে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ফরিদপুর
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ এএম
ছবি: ফরিদপুরে এসআরবির পৃথক দুটি অভিযানে উদ্ধার ককটেল, আগ্নেয়াস্ত্র , সেনাবাহিনীর পোশাক ইত্যাদি। সংগৃহীত
ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি রিভলবার, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি এবং সেনাবাহিনীর পোশাক সামগ্রীসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)। সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাফায়েত আহমেদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) সকালে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে। মাদক কেনা-বেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে এসআরবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১টি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে একই দিন সকাল ৮টা ৪৫ এ কোতয়ালী থানাধীন নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় সাফায়েত আহমেদকে (৩৬) আটক করা হয়। আটক সাফায়েত চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে।
আটক সাফায়েতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২ টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, সেনাবাহিনীর ২টি ক্যাপ, এপিবিএন-এর ১টি ক্যাপ ও সেনাবাহিনীর ১টি কোমর বন্ধনী (বেল্ট) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ জানায়, সাফায়েত আহমেদ কোতয়ালী থানার একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
এসআরবি-১০ এর সিপিসি-৩ (ফরিদপুর ক্যাম্প) কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবি-১০ এর এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।