সমাজসেবামূলক কাজে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে রাজশাহী কলেজে মুক্ত আলোচনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, রাজশাহী
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও সামাজিক দায়বদ্ধতাই পারে সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে রাজশাহী কলেজে ‘সমাজসেবামূলক কাজে তরুণরা কী ভূমিকা রাখতে পারে’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী কলেজ শাখা।
সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মিরাতুজ জাহান মিলি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখার সহসভাপতি প্রীতি চৌধুরী, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টবিষয়ক সম্পাদক তানভীর রওনক, আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ডিএম আল আমিন, শুভসংঘের বন্ধু অপু তরফদারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য।
সভায় বক্তারা বলেন, তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী। তাদের রয়েছে সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, নতুন কিছু করার সাহস এবং সমাজের প্রচলিত সমস্যাগুলো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। এই শক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে পারলে সমাজের নানা সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই তরুণদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের চর্চা গড়ে তুলতে হবে।
তারা বলেন, সমাজসেবা মানেই বড় কোনো আয়োজন কিংবা বিপুল অর্থ ব্যয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একজন মানুষের উপকারে আসা, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়াও সমাজসেবার অংশ। একজন শিক্ষার্থী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনায় সহযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে তরুণ সমাজের সামনে মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া, কিশোর অপরাধ, বাল্যবিবাহ, পরিবেশদূষণ ও সামাজিক অসহিষ্ণুতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা প্রতিরোধে তরুণদের প্রথমে নিজেদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে মানবিক উদ্যোগের প্রচার, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে নতুন মানুষকে যুক্ত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সমাজসেবামূলক কাজে তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দলগত উদ্যোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও নিয়মিত কার্যক্রম। এলাকার মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। এতে মানুষের উপকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।
সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী কলেজ শাখার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা তৈরি, নতুন সদস্যদের সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং কলেজকেন্দ্রিক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে মতামত দেন উপস্থিত সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে মিরাতুজ জাহান মিলি বলেন, ‘তরুণরাই সমাজের পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের মধ্যে মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ ও সামর্থ্য রয়েছে। প্রয়োজন সেই আগ্রহকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। প্রত্যেক তরুণ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একজন মানুষের উপকারে এগিয়ে আসেন, তাহলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ তিনি মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সংগঠনের সব সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সমাজের কল্যাণে নিজেদের সময়, শ্রম ও মেধা কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।