গাছে পেরেক ঠুকে ক্ষতি তুলে ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রচারাভিযান
ডেইলি সান রিপোর্ট, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তির বিজ্ঞাপনসংবলিত সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। প্রচারণার সহজ মাধ্যম হিসেবে গাছকে ব্যবহার করা হলেও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সড়কের পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারাভিযান চালিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাছের সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল নাঈম।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাব্বির এলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, আবৃত্তি অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কবি নির্মল এস পলাশ, কুরমা চা বাগান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনির উদ্দিন আহমেদ এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম, বসুন্ধরা শুভসংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোনায়েম খাঁন, সদস্য মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং শিক্ষক আশিষ চৌহান ও অনুজ কুমার সিংহসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানোকে অনেকেই সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখেন। অথচ এ ধরনের কাজ গাছের বাকল ও ভেতরের জীবন্ত টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। ক্ষতের মাধ্যমে গাছে রোগজীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একই গাছে পেরেক ঠুকে বিভিন্ন ধরনের সাইনবোর্ড লাগানোর ফলে গাছের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে। তাই বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য গাছকে ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, গাছ মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। অক্সিজেন সরবরাহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, ছায়া প্রদান এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ সামান্য প্রচারণার সুবিধার জন্য গাছের ক্ষতি করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। গাছের সুরক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
বক্তারা গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন স্থাপন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি গাছের ক্ষতি করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব মাধ্যম ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, গাছের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং প্রচারণার নামে নির্বিচারে গাছের ক্ষতি করার প্রবণতা কমিয়ে আনা। শুধু গাছ লাগানোই নয়, বেড়ে ওঠা গাছগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন আয়োজকেরা।
আলোচনা শেষে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।