মঠবাড়িয়ায় সম্প্রীতি রক্ষায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মুক্ত আলোচনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, পিরোজপুর
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মুক্ত আলোচনা সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ‘বিভেদ নয়, সম্প্রীতিই হোক শক্তি; পারস্পরিক শ্রদ্ধায় গড়ি সম্প্রীতির সমাজ’ শীর্ষক এ আলোচনায় গুজব ও উসকানি থেকে সতর্ক থাকা এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের খাস মহল লতিফ ইনস্টিটিউশন ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বরে বসুন্ধরা শুভসংঘের মঠবাড়িয়া শাখা এ মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুস সালাম আজাদী। আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ সাংবাদিক জামাল এইচ আকন, বসুন্ধরা শুভসংঘের মঠবাড়িয়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি ও শিক্ষক দেবব্রত হালদার, সদস্য ও ভাস্করশিল্পী সুমন বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শিবাজী মজুমদার শিবু এবং সদস্য গাজী আল আমিন, সৌরভ ঘরাতি, গোলাম রাব্বি, ইমদাদ হোসেন রাব্বি ও বাদল কৃষ্ণ টুটু। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মঠবাড়িয়া শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের পিরোজপুরের আঞ্চলিক প্রতিনিধি দেবদাস মজুমদার।
মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের মঠবাড়িয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কবি মেহেদী হাসান।
আলোচকেরা বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। এই সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিমূলক বক্তব্য যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তথ্য যাচাই না করে তা প্রচার করা কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং অন্যের মত ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। ভিন্ন ধর্ম, মত বা পরিচয়ের কারণে কাউকে অবহেলা কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সম্প্রীতির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাঁরা। সমাজে কোনো ধরনের বিভেদ বা উত্তেজনা দেখা দিলে দায়িত্বশীল আচরণ, সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব ছড়িয়ে দিতে সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই বিভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার শপথ নেন এবং এ উদ্যোগের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।