ফকিরহাটে অসচ্ছল শিশুদের পূজার নতুন পোশাক দিল শুভসংঘ
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘের ফকিরহাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির ফকিরহাট উপজেলা শাখার সভাপতি অনিমেষ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধানে এই পোশাক বিতরণ করা হয়। উৎসবের আনন্দ থেকে যেন কোনো শিশু বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যে সংগঠনটি এই মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
পূজার নতুন পোশাক পেয়ে খুশি শিশুরা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানকে নতুন পোশাক কিনে দিতে না পারার কষ্ট দূর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
নতুন পোশাক পাওয়া এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মা শিল্পী রানী বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে নতুন পোশাক পেয়ে আমার বাচ্চাটি অনেক খুশি হয়েছে। আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু আমার পিতৃহীন সন্তানকে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার সন্তানকে নতুন পোশাক দিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছে। আমি তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’
শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য চিন্ময় মজুমদার। তিনি বলেন, ‘শত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। এ জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ ফকিরহাট উপজেলা শাখার সহ-সম্পাদক হালিমা খাতুন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে দরিদ্র শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এই আনন্দ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। এমন একটি মানবিক উদ্যোগের সুযোগ করে দেওয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগ পূজার আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
শুভসংঘের সদস্যরা জানান, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এমন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।