গোপালগঞ্জে শারদীয় শুভেচ্ছা উপহার দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
ডেইলি সান রিপোর্ট, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অসচ্ছল হিন্দু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শারদীয় শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘের গোপালগঞ্জ জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে এ উপহার বিতরণ করা হয়। মন্দিরের পুরোহিত, সেবায়েত ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়।
উৎসবের আগে নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দিত হন তাঁরা। তাঁদের একজন মন্দিরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিনতী সরকার (মিনু)। দুর্গাপূজা এসে গেলেও নিজের জন্য শাড়ি কেনা হয়নি তাঁর।
উপহার হিসেবে শাড়ি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে মিনতি বলেন, ‘পূজা চলে এসেছে, অথচ এখনো একটা শাড়ি কিনতে পারিনি। তোমরা বাবারা আমাকে যে শাড়িটা দিলে, সেটা পরে এবার পূজা দেখতে যাব। তোমাদের আশীর্বাদ করি। তোমরা ভালো থেকো।’
শুধু মিনতী নন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধুতি ও পাঞ্জাবি উপহার পেয়ে আনন্দিত গোপালগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির প্রধান পুরোহিত সুনীল চক্রবর্তীও। এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আমাদের যে উপহার দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবো। ভগবান যেন তাঁদের আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দেন।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সুজন দাস বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশ ও জনগণের কথা ভাবে এবং মানুষের পাশে থাকে। বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক সহায়তা সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের হাতে পূজার উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের উৎসবের দিনগুলো আরও আনন্দময় হবে। এমন মহতী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এ ধারাবাহিকতা সব সময় বজায় থাকবে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অয়ন সাহা বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উপলক্ষে এভাবে উপহার নিয়ে খুব কম মানুষই এগিয়ে আসেন। সবাই যদি এভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে সমাজে বৈষম্য দূর হতো।’
উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই উদ্যোগে নতুন পোশাকের পাশাপাশি উপহার পাওয়া ব্যক্তিদের মনে তৈরি হয়েছে আনন্দের উপলক্ষ্য। পূজার প্রস্তুতির ব্যস্ততায় তাঁদের সেই হাসিই যেন হয়ে উঠেছে আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।
জেলা শাখার সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সীমান্ত পাল বলেন, ‘উপহার সব সময়ই আনন্দের। আর সেই উপহার যদি উৎসবের সময় পাওয়া যায়, তাহলে আনন্দের সীমা থাকে না।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি মিমি বালা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিমুল ইসলাম, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মন্দিরা সাহা, ইভেন্ট সম্পাদক রাজীব বিশ্বাস এবং কার্যকরী সদস্য সাহিত্য পাল, বিপ্রজিৎ দাস ও গোপাল সাহাসহ অন্য সদস্যরা।