বাল্যবিবাহ রুখতে চরফ্যাশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের সভা
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়তে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ভোলার চরফ্যাশনে আলোচনা সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখা। ১২ অক্টোবর আলিগাঁও আবদুল গফুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় বাল্যবিবাহের কুফল, সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং শিক্ষাজীবনে এর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও ছিল আয়োজনের লক্ষ্য।
প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গফুর। সভাপতিত্ব করেন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আয়েশা রিপা। উপস্থিত ছিলেন সদস্য আহমেদ শামীম, মোহাম্মদ তুহিন, আমেনা ইসলাম, ইকরা আক্তার, মোহাম্মদ নিহাদ, রাকিবুল হাসান ও ইকরাম এফাজসহ অন্যরা।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা, যা শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, মানসিক বিকাশ এবং নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে হলে অনেক শিক্ষার্থীকে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। ফলে তাদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হয়।’
বক্তারা বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশ। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রচলিত ভুল ধারণার কারণে অভিভাবকেরা অল্প বয়সে সন্তানদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আয়েশা রিপা বলেন, ‘তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ।’ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা, নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং পরিবার ও বন্ধুদের সচেতন করা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব। কোনো সহপাঠী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকলে বিষয়টি গোপন না রেখে বিশ্বস্ত শিক্ষক, অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানাতে হবে।’
সভায় প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, মেয়েশিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা এবং ছেলে ও মেয়েশিশুর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবিক মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়।