বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার ১০ দিনব্যাপী ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ১০ দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে— ‘সচেতন হই, ডেঙ্গু রুখি, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ি।’
কর্মসূচির আওতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় পর্যায়ক্রমে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রদর্শন, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার সদস্য তৌফিক হোসেন। আয়োজনে রতন, রাছেল, রিংকু, রিফাত, মুক্তা, আবু মুছা, ইসমাইল, আমির, সুরাইয়া, বুশরাত, তৌহিদুল, সুহাইল, মোহন, তানভীর, রাতুল, মহিবুল্লাহ, রকিব, তহমিনা ও তাহেরাসহ সংগঠনের শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
আলোচনা সভায় ডেঙ্গুর কারণ, এডিস মশার বংশবিস্তার, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। প্রতিদিন সংগঠনের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য এসব কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার সদস্য রাছেল শেখ বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, এর আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকে নিয়মিত নজর দিতে হবে। সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।’
সভার সভাপতি তৌফিক হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। আমাদের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু ১০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি সচেতনতা তৈরি করা, যাতে তারা নিজেদের জায়গা থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন।’
আয়োজকরা জানান, ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।