ভোলায় বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সঙ্গে দিন কাটাল শুভসংঘ
প্রবীণ দিবসে নিজাম-হাসিনা বৃদ্ধাশ্রমে গল্প, আড্ডা ও ছবি তুলে সময় কাটান সংগঠনের সদস্যরা
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ভোলার নিজাম-হাসিনা বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সঙ্গে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
জীবনের শেষ বিকেলে এসে মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। চায় একটু আপন করে কথা বলা, কেউ পাশে বসুক, কুশল জিজ্ঞেস করুক কিংবা পুরোনো দিনের গল্প শুনুক। কখনো কখনো একটি আন্তরিক হাসি, এক কাপ চা কিংবা কয়েক ঘণ্টার নিবিড় সঙ্গই হয়ে ওঠে প্রবীণদের যাপিত জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোলার নিজাম-হাসিনা বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখা। প্রবীণদের একাকীত্ব কিছুটা কমিয়ে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতেই এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)। উপস্থিত ছিলেন শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ভোলা জেলা প্রতিনিধি ইকরামুল আলম এবং নিউজ টুয়েন্টিফোরের ভোলা জেলা প্রতিনিধি মো. মঞ্জুর আলম।
শাখার অন্য নেতা ও সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস মিথিলা, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা, সহ-দপ্তর সম্পাদক আরিয়ান আহমেদ রকি, অর্থ সম্পাদক সাফা ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান জামী, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান এবং কার্যকরী সদস্য লাইজু আক্তার ও মো. রাসেল।
শুরুতেই সংগঠনের সদস্যরা প্রবীণদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কেউ প্রবীণদের পাশে বসে হাত ধরেন, কেউ মন দিয়ে তাঁদের জীবনের গল্প শোনেন। প্রবীণদের কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি বলেন, কেউ হাসিমুখে তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। একপর্যায়ে সবাই মিলে ছবিও তোলেন।
বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের অনেকেই আপনজনের কাছ থেকে দূরে আছেন। কেউ দীর্ঘ কর্মজীবন কাটিয়েছেন পরিবার ও সমাজের জন্য, কেউ প্রিয়জন হারিয়েছেন, আবার কেউ নানা বাস্তবতায় এখানে ঠাঁই নিয়েছেন।
বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, ‘আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনজনের সঙ্গ। ওরা এসে আমাদের সঙ্গে সময় কাটায়, কথা বলে। এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় আনন্দ।’
শাফায়াত হোসেন বলেন, ‘এই আয়োজন আমাদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি আমাদের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও মানবিকতার ছোট্ট প্রকাশ। একসময় যাঁরা আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, আজ তাঁদের পাশে কিছুটা সময় কাটাতে পারা আমাদের সৌভাগ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধাশ্রমের মানুষদের শুধু খাবার বা পোশাক নয়, কথা বলার একজন মানুষ দরকার। এমন কিছু মুহূর্ত দরকার, যেখানে তাঁরা বুঝবেন, তাঁরা একা নন, সমাজ তাঁদের ভুলে যায়নি। আমাদের আয়োজন হয়তো বড় নয়, কিন্তু ভালোবাসার জায়গাটা বড়।’
দিন শেষে সদস্যরা বিদায়ের প্রস্তুতি নিলে অনেক প্রবীণের চোখেমুখে মায়া ফুটে ওঠে। কেউ কেউ জানতে চান, তাঁরা আবার কবে আসবেন।