EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

মানুষই আমাদের নদীগুলোকে গিলে খেয়েছে: ইমদাদুল হক মিলন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

মানুষই আমাদের নদীগুলোকে গিলে খেয়েছে: ইমদাদুল হক মিলন
অ অ

‘মানুষই আমাদের নদীগুলোকে গিলে খেয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নদী হারিয়ে গেলে শুধু পানি হারায় না, হারিয়ে যায় মানুষের শৈশব, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান কার্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নদী, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘রজতরেখা, ধানসিঁড়ি—এই নদীগুলোর নাম শুনলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে। আমাদের শৈশবের নদীগুলো ছিল ছবির মতো সুন্দর। অথচ আজ সেই নদীগুলো খুঁজতে গেলে অনেক সময় নদীর কোনো চিহ্নই পাওয়া যায় না।’

ধানসিঁড়ি নদী খুঁজতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দূর হাঁটার পর তাকে একটি ড্রেনের মতো জায়গা দেখিয়ে বলা হয়েছিল, ‘এখানেই ছিল ধানসিঁড়ি নদী।’ মানুষের দখল ও অবহেলায় একসময়কার সেই নদী হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুড়িগঙ্গা নদীর প্রসঙ্গ তুলে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, একসময় মানুষ বুড়িগঙ্গার পানি পান করত, নদীতে গোসল করত এবং বাড়িতে নদীর পানি নিয়ে যেত। অথচ এখন সেই নদীর পাশ দিয়ে হাঁটাও দুষ্কর।

তিনি বলেন, নদী শুধু একটি জলধারা নয়; নদী মানুষের জীবন, স্মৃতি ও সংস্কৃতির অংশ। নদী হারিয়ে গেলে আগামী প্রজন্মও এর সঙ্গে হারাবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবেশ ও নদী রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, নিজেদের চারপাশের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সভাপতিত্বে সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নদী দখল ও দূষণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাকারিয়া জামান বলেন, তরুণেরা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তি। শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে সেই সচেতনতা পরিবার ও সমাজ থেকে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

আরও পড়ুন