EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিনে স্বপ্ন বুনছেন ২০ নারী

নান্দাইলে তিনমাস প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে এ সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিনে স্বপ্ন বুনছেন ২০ নারী

নান্দাইলে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

প্রশিক্ষণার্থীদের একজন মীরা রাণী সাহা। দুই ভাই ও দুই বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা মীরা বর্তমানে বড় বোনের সঙ্গে নান্দাইলে থাকেন। তিনি নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত। বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে সেলাই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সময় মীরা ভাবেননি যে প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর হাতে একটি সেলাই মেশিনও তুলে দেওয়া হবে। তাঁর কাছে বিনামূল্যে সেলাই শেখা ও দক্ষতা অর্জনই ছিল বড় সুযোগ। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার কথা জানার পর তাঁর মনে জন্ম নেয় নতুন আশা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের মূল লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। 

তিনি বলেন, সাহায্য দিয়ে কোনো মানুষকে চিরদিন টেনে তোলা যায় না; কিন্তু তার হাতে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ বা হাতিয়ার তুলে দিলে সে নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, নান্দাইলের যেসব অসচ্ছল নারীদের আজকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হলো, তারা আর কারো বোঝা হয়ে থাকবে না। এই একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের অভাব দূর করতে পারে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আমরা কেবল সেলাই মেশিন বিতরণেই থেমে থাকছি না, সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছি, গৃহহীনকে ঘর বানিয়ে দিচ্ছি। শুভসংঘ সারা দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই শুভ কাজগুলো নিরন্তর চালিয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসি (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনামুল হক, ইউএএস আনোয়ার হোসেন, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক কাবুল, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. কামরুল হাসান কামু এবং ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরের সাবেক সহ-সভাপতি ফারহানা বিনতে আবদুল্লাহ।

ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, নান্দাইলের মতো প্রত্যন্ত এলাকার নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন দেওয়া একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, নারীদের আত্মমর্যাদা ও সামাজিক সম্মান অনেকাংশে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর নির্ভর করে। হাতে উপার্জন থাকলে পরিবার ও সমাজে নারীর সম্মান বাড়ে এবং নিজের ও সন্তানের প্রয়োজনে অন্যের ওপর নির্ভর না করেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়। 

তিনি নারীদের সেলাই মেশিন অবহেলা না করে নিয়মিত কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, দক্ষ হয়ে উঠলে পরবর্তীতে তাঁদের তৈরি পোশাকের অর্ডার এনে কাজের সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা করা হবে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করা গেলেই সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, নান্দাইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক পরিবার আজ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছে, আর বসুন্ধরা শুভসংঘ কেবল সেলাই মেশিন বিতরণ করছে না, অসহায় পরিবারগুলোর হাতে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে বেগবান করবে। আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতে তাদের এমন সব সামাজিক কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ওসি (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অবহেলিত ও অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, তারা অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও সহায়তা করছে। তাঁর মতে, নান্দাইলে নারীদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদানের এই উদ্যোগ শুভসংঘের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে এবং এই অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন