গাইবান্ধায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
গাইবান্ধায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
গাইবান্ধায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রামচন্দ্রপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব’ শীর্ষক এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে আত্মহত্যার ঝুঁকি, মানসিক সংকটে থাকা মানুষের আচরণগত পরিবর্তন শনাক্ত করা, পরিবারের ভূমিকা, বন্ধু ও সহপাঠীদের দায়িত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় এবং সামাজিক সহমর্মিতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. সামিউল বাসিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান।
এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. রেজাউল করিম, মো. মঞ্জু মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর কবির, মোছা. সাবিনা বেগম, সহসভাপতি মো. সোহাগ ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ সরকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পূর্ণিমা রাণী, অর্থ সম্পাদক মোন্নাফ মিয়া, সহনারী বিষয়ক সম্পাদক দিপা খানম, ইভেন্ট সম্পাদক সাকিব হাসান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পিংকি বর্মণ প্রিতি, শিক্ষা ও পাঠক বিষয়ক সম্পাদক সকাল আক্তার, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হামিম সরকার এবং সদস্য সাকিল মিয়া, লিমন মিয়া, আসিফ মিয়া ও মারুফ মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হতাশা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাকিত্ব, আর্থিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবসহ নানা কারণে মানুষ মানসিক সংকটে পড়তে পারেন। তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু, শিক্ষক ও সহপাঠীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়া, স্বাভাবিক কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন কিংবা মৃত্যুর কথা বলার মতো বিষয়কে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে সংকটে থাকা ব্যক্তিকে বকাঝকা, অপমান বা দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনে পরিবার, শিক্ষক, চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নিতে হবে।
আলোচনায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. রেজাউল করিম বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারই হতে পারে একজন মানুষের প্রথম নিরাপদ আশ্রয়। সন্তান বা পরিবারের কোনো সদস্য ব্যর্থ হলে তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কঠিন সময়ে তাকে একা না রেখে পাশে দাঁড়ানো এবং তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা জরুরি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বন্ধু ও সহপাঠীদেরও হতাশায় থাকা ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভয় বা সংকোচ ছাড়াই নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারে, এমন নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়ানো জরুরি। পরিবারে পারস্পরিক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ এবং সমাজে মানসিক সংকট নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে সংকটে থাকা মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পথ খুঁজে পেতে পারেন।
কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
