ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সামাজিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, জাবি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন বা প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। এ ক্ষেত্রে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
মুক্ত আলোচনায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে করণীয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মতামত দেন। পাশাপাশি তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, দক্ষতা বৃদ্ধি, হতাশা মোকাবিলা, আত্মহত্যা ও মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষা বৃত্তি এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ও উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভালো কাজ করতে হবে প্রশংসা বা প্রতিদানের আশায় নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত কাজের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের নিয়ে গর্ব করি। তোমাদের স্কিল বৃদ্ধি করতে হবে। বসুন্ধরা তোমাদের পাশে আছে। শুভসংঘের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ পৃথিবী বিনির্মাণে তৈরি হতে হবে। নিজেকে নিজের তৈরি করতে হবে।’
তরুণদের হতাশ না হয়ে সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনে নানা প্রতিকূলতা আসবে। হতাশাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষকে বোঝাতে ও সচেতন করতে হবে। শিক্ষার শুরু পরিবার থেকে, আর সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও শুরু হতে পারে নিজের পরিবার ও চারপাশ থেকেই।
শিক্ষা বৃত্তির প্রসঙ্গে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, সংগ্রামী ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে কোনো প্রশংসা বা গুণগান প্রত্যাশা করা হয় না। ভালো কাজ করার মানসিকতা থেকেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি মাসে বিনা মূল্যে ১০০ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের সেলাই মেশিনও উপহার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য, পরিবারের জন্য কাজ করো। তুমি ভালো কাজ করলে দেশ, সমাজ ও পৃথিবী উপকৃত হবে। আর তুমি খারাপ কাজ করলে পৃথিবীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি সামাজিক সংগঠন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, সামাজিক পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি সবাইকে ‘শুভ কাজের সহযোগী’ হওয়ার আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মানিক মিয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি কোনোভাবেই রাখা যাবে না। মশার কামড় থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাফর খন্দকার ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন স্থান নিয়মিত পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম আলী বলেন, মশা নিধনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়েও কাজ করার কথা বলেন তিনি।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহান ইসলাম সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত সভা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম মনি বলেন, শুভসংঘের শিক্ষা বৃত্তি তাঁদের মতো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তিনি শুভসংঘের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরীন আফরিন মিতু স্থানীয় পর্যায়ের শুভসংঘের কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরির কথা বলেন। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাহীদ আলী মাদক ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সজীব ইসলাম সংগঠনের সদস্যদের পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লিজা পারভীন শুভসংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার কথা জানিয়ে সাহিত্যচর্চা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রাঙা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, লিফলেট ও সরাসরি প্রচারণার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রক্তের প্রয়োজন হলে শুভসংঘের রক্তযোদ্ধারা পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রাণী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস, আবাসিক হল, বাসাবাড়ি ও নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।