বারহাট্টায় বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন রোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের উঠান বৈঠক
ডেইলি সান রিপোর্ট, নেত্রকোনা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
‘শুভ কাজে, সবার পাশে’—এই প্রত্যয়ে বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নেত্রকোনার বারহাট্টায় সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে বসুন্ধরা শুভসংঘ বারহাট্টা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ বারহাট্টা উপজেলা শাখার সভাপতি আজিজুল হক ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান হীরা।
বৈঠকে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ বারহাট্টা শাখার উপদেষ্টা ফেরদৌস আহমেদ বাবুল, উপদেষ্টা আবুল খায়ের আকন্দ টিটু, সহ-সভাপতি লতিবুর রহমান খান ও যুগ্ম সম্পাদক পীযূষ কান্তি গুণ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন কৌশিক, কোষাধ্যক্ষ রিপন গুণ ও প্রচার সম্পাদক ওমর আহমদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে একটি মেয়ের স্বাভাবিক জীবন, শিক্ষার সুযোগ ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক মেয়েকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু পরিবার নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সমাজের সচেতন প্রত্যেক মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উঠান বৈঠকে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা আমার বিয়ে দিয়ে দেন। এখন আমার কোলে ছয় মাসের সন্তান। বিয়ের পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। বাল্যবিয়ের এত ক্ষতি, সেটা আগে বুঝিনি।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান পপি। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। তখন বিয়ে কী জিনিস, তা বুঝিনি। এখন সংসার করছি। আমরা গরিব মানুষ। আগে এত কিছু বুঝলে বিয়ে করতাম না।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ফেরদৌস আহমেদ বাবুল বলেন, ‘বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। পরিবার থেকেই এই পরিবর্তন শুরু করতে হবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আবুল খায়ের আকন্দ টিটু বলেন, ‘অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ বারহাট্টা উপজেলা শাখার সভাপতি আজিজুল হক ফারুক বলেন, ‘একটি মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হলে সে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তুলতে পারবে। তাই মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
উঠান বৈঠকে স্থানীয় নারীদের বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।