EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

গাইবান্ধা সদর, সাদুল্যাপুর ও ফুলছড়ি উপজেলার দরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান

আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখাল বসুন্ধরা গ্রুপ

ডেইলি সান রিপোর্ট, গাইবান্ধা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২ এএম

আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখাল বসুন্ধরা গ্রুপ

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় গাইবান্ধা সদর, সাদুল্যাপুর ও ফুলছড়ি উপজেলার ৩৬ অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। ছবি : বসুন্ধরা শুভসংঘ

অ অ

‘ছোটবেলা থেকেই বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবু পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা। আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পাজামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখাল বসুন্ধরা গ্রুপ আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’

তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধা।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবার সীমিত আয়ে তিন বোনের পড়াশোনা চালানো ছিল কঠিন এক সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন আলোরাধা। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এলেও আর্থিক সংকট পিছু ছাড়েনি। স্বামীর একটি ছোট দোকান থাকলেও নানা সামাজিক বৈষম্য ও অবহেলার কারণে ব্যবসা ভালো চলে না। ফলে সংসারের চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে।

আলোরাধার জীবনটি সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার এই ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। তিন মাস বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরার দেওয়া এই সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন।

আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি দরিদ্র নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’ অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।

আরও পড়ুন