EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজন

কুয়াকাটায় ‘এআই সৃজনশীলতা বাড়ায় নাকি কমায়’ বিতর্কে মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা

যেখানে যুক্তি-তথ্যের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন শিক্ষার্থী জুনায়েদ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

কুয়াকাটায় ‘এআই সৃজনশীলতা বাড়ায় নাকি কমায়’ বিতর্কে মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা

কুয়াকাটায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে এআই নিয়ে বিতর্কে অংশ নেয় আজিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অ অ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ায়, নাকি কমিয়ে দেয়—সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত এই বিষয় নিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হলো একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কে এআইয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য, যুক্তি উপস্থাপন ও উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ কুয়াকাটা পৌর শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মুসুল্লীয়াবাদ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় আজিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং এর সম্ভাব্য প্রভাবকে কেন্দ্র করে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে তারা।

বিতর্কে পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন, সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হলে এআই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, তথ্য অনুসন্ধান, গবেষণা, সমস্যা সমাধান এবং নতুন ধারণা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করতে পারে। এআইয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানা, শেখার উপকরণ খুঁজে পাওয়া এবং জটিল বিষয় সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে মত দেন তারা।

অন্যদিকে বিপক্ষ দলের শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেন, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দুর্বল করে দিতে পারে। সবকিছু প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে পাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে নিজে চিন্তা করা ও নতুন কিছু সৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের মেধা, যুক্তিবোধ ও সৃজনশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বিতর্কে শিক্ষার্থীদের যুক্তি উপস্থাপন, তথ্যভিত্তিক বক্তব্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। একপর্যায়ে এআইকে ভয় না পেয়ে এর সঠিক, দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কুয়াকাটা পৌর শাখার সভাপতি মো. সাইদুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন মুসুল্লীয়াবাদ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মো. হেমায়েত উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাও. খলিলুর রহমান, প্রভাষক (আইসিটি) মো. এরশাদুল ইসলাম, মুসুল্লীয়াবাদ একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আ. কাদের ও সহকারী শিক্ষক মোসা. শিরিনা খাতুন।

বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক (আইসিটি) মো. এরশাদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. আ. কাদের ও সহকারী শিক্ষক মোসা. শিরিনা খাতুন। স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন মো. সাইদুর রহমান। আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘ কুয়াকাটা পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. আল-আমীন ও সদস্য জাবেরসহ অন্যরা।

আয়োজকেরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সমাজব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে রাখার পরিবর্তে কীভাবে তা জ্ঞান অর্জন ও সৃজনশীল কাজে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।

বিতর্ক শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলজ গাছের চারা ও বই বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিতর্কের মতো জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য আরও দক্ষ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

আরও পড়ুন