EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

রাবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘সংবিধানের আলোকে মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা

যেখানে সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময় করেন শিক্ষার্থীরা

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

রাবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘সংবিধানের আলোকে মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘সংবিধানের আলোকে মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি সান

অ অ

সংবিধান, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সচেতন করে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘সংবিধানের আলোকে মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সমসাময়িক সময়ে মানবাধিকার রক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে তরুণ সমাজের করণীয় নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ, প্রতিকার এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কেও আলোচনা করেন।

মুক্ত আলোচনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ক্রীড়া সম্পাদক ও ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আল ফারাবী দুরন্ত বলেন, ‘আজকের আলোচনা আমাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে যে সংবিধান কেবল আইনের সংকলন নয়; এটি একটি জাতির নৈতিক অঙ্গীকার। সংবিধান যেমন নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে, তেমনি সেই অধিকার রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্বও আমাদের সবার। এ ধরনের জ্ঞানচর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করবে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা ইসলাম মেরিনা বলেন, ‘সংবিধান আমাদের শুধু অধিকার দেয় না, বরং ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার চর্চা করতে শেখায়। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা একটি বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এমন আয়োজন আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও আলোচনা পরিচালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিক। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অধ্যয়ন কেবল একটি একাডেমিক অনুশীলন নয়, বরং সচেতন নাগরিক গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। মানবাধিকার তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন আমরা অধিকার ও কর্তব্য—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখি। আজকের আলোচনার উদ্দেশ্য শুধু সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা করা নয়; বরং এর অন্তর্নিহিত ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার দর্শনকে অনুধাবন করা। একটি রাষ্ট্রের মান নির্ধারিত হয় সংবিধানের ভাষায় নয়, বরং সেই সংবিধানের চেতনা নাগরিকের জীবন ও রাষ্ট্রের আচরণে কতটা প্রতিফলিত হয় তার মাধ্যমে। এই উপলব্ধিই আমাদের পাঠচর্চাকে অর্থবহ করে তোলে এবং ভবিষ্যতে একটি অধিক ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।’

সংগঠনের সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো সংবিধানকে জানা, বোঝা এবং চর্চা করা। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পেশাজীবী তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম ক্ষেত্র। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বসুন্ধরা শুভসংঘ বিশ্বাস করে, জ্ঞানভিত্তিক এ ধরনের মুক্ত আলোচনা ও পাঠচক্র শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, মূল্যবোধ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পাঠচক্র, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার বিষয়ক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, সংবিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক প্রান্ত কুমার দাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য হিমেল আহমেদ হিমু এবং সাধারণ সদস্য শোভা আক্তার, রাসেল শেখ, শামীম হাসান, হেলাল উদ্দিন, কাইয়ুম আলী, জয়নালসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন