EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

চরফ্যাশনে শুভসংঘের উদ্যোগে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ

আয়োজকরা জানান, বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

চরফ্যাশনে শুভসংঘের উদ্যোগে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার চরফ্যাশনে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

‘প্লাস্টিক দিন, গাছ নিন’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় শনিবার (৬ জুন) বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, কোমল পানীয়ের বোতল, প্লাস্টিক মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দেন। পরে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে তাদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, কৃষিজমি এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ রক্ষায় তাদের সম্পৃক্ত করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সদস্য সচিব কাউসার আহমেদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো সমস্যা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন সরবরাহ করে না, বরং বায়ুদূষণ কমায়, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণের আন্দোলনকে আরো বেগবান করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ আমাদের কাছে খুবই ব্যতিক্রমধর্মী ও অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে গাছের চারা পাওয়ার মাধ্যমে আমরা যেমন পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়েছি, তেমনি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহিত হয়েছি।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে এমন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

এসময় বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করা এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। 

বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের মতে, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এখনই সম্মিলিতভাবে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সচেতন মহলের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃক্ষরোপণকে একসঙ্গে যুক্ত করে পরিচালিত এমন উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন