পার্বত্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের মতবিনিময় সভা
ডেইলি সান রিপোর্ট, বান্দরবান
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পার্বত্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট ও অভিযোজন কৌশল নিয়ে বান্দরবানের সদর উপজেলা সুয়ালক ইউনিয়ন চিম্বুক রোড ফারুক পাড়া বম সম্প্রদায়ের যুব ও বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ, বান্দরবান জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় গ্রাম প্রধান এলাকার তীব্র পানি সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গ্রাম প্রধান খার সিম বম।
এছাড়া সভায় বান্দরবান জেলা শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক- উঅং সিং মার্মা, দপ্তর সম্পাদক -উবাসিং মারমা,সদস্য লালঠান লিয়ান বম, রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমুল তংঞ্চঙ্গ্যা, স্থানীয় যুবসমাজ, নারী প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে পানি সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর অভিযোজন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।’
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গ্রাম প্রধান জানান, পাহাড়ি ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে। তারা দ্রুত পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উয়ই সিং মার্মা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের পানি সংকট শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও মানবিক সংকটেও পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’
এ সময় স্থানীয় যুবসমাজ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পানির অভাবে তাদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং যুবদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
নারী প্রতিনিধিরা জানান, পরিবারের পানি সংগ্রহের প্রধান দায়িত্ব তাদের ওপর পড়ায় প্রতিদিন বহু দূর পথ হেঁটে পানি আনতে হয়, যা শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তারা নিরাপদ পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সভায় মতামত ব্যক্ত করে বলেন, পানি সংকট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক উৎস রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।