রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শুভসংঘের পহেলা বৈশাখ উদযাপন
বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং ঐক্যের বার্তা।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং ঐক্যের বার্তা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আপ্যায়ন, প্রবন্ধ পাঠ, গান পরিবেশন এবং লোকজ খেলাধুলা। গোল্লাছুট ও হাঁড়িভাঙা খেলায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে যায় শিকড়ের টানে গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা আবহে, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবের আমেজ আরো বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পোদ্দার। তিনি পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং বাঙালির জীবনধারায় এর গভীর প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের বাঙালি পরিচয়ের মূল ভিত্তি- যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভেদাভেদ ভুলে আমরা এক হয়ে উঠি।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাবুল হোসাইন, প্রভাষক, সংগীত বিভাগ এবং সাবেকুন খালেক সুবা, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আক্তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা- এই চেতনায় আমরা ঐক্য ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যাব।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রচার সম্পাদক মো. ফেরদৌস হোসেন। তার প্রবন্ধে বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো সুচারুভাবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, মনে করিয়ে দেয় আমরা কারা এবং আমাদের সংস্কৃতির গভীরতা কতটা বিস্তৃত।
অনুষ্ঠানে আকাশ রায়, মোমো রায়, গণেশ চন্দ্র রায়, আরেফিন, পায়েলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত ও সফল হয়ে ওঠে।
সার্বিকভাবে, বসুন্ধরা শুভসংঘ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও চেতনাকে আরো জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।