শুভসংঘের আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বর্ণিল মেহেদি উৎসব
ডেইলি সান রিপোর্ট, ভোলা
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দ্বীপজেলা ভোলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ও আনন্দঘন আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণিল মেহেদি উৎসব, যা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে ফুটিয়ে তোলে অনাবিল হাসি ও আনন্দের ঝলক।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখা আয়োজিত মেহেদি উৎসবে অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে রঙিন মেহেদির নকশা এঁকে দেওয়া হয়, পাশাপাশি তাদের জন্য ছিল নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, যেখানে প্রতিটি শিশু নিজেদের মতো করে উপভোগ করেছে ঈদের আগাম আনন্দ।
১৮ মার্চ (বুধবার) দিনব্যাপী মেহেদি উৎসবের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে দ্বীপজেলা ভোলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতাধিক শিশু। বসুন্ধরা শুভসংঘ আয়োজিত মেহেদী উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল শিশুদের হাতে দৃষ্টিনন্দন নকশায় মেহেদী পরিয়ে দেওয়া।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা শিশুদের হাতভর্তি রঙিন মেহেদির ডিজাইন এঁকে দেন, যা দেখে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে অপার আনন্দ। অনেক শিশুর জন্য এটি ছিল জীবনের প্রথম মেহেদি পরার অভিজ্ঞতা, যা তাদের মনে দীর্ঘদিন ধরে সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে।
শিশুদের হাতভর্তি রঙিন মেহেদির ডিজাইন এঁকে দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি তাযকিয়া ইনসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার, নারী বিষয়ক সম্পাদক বিবি ফাতেমা, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সাফা ইসলাম, কার্যকরী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস, আরজু বেগম।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখা আয়োজিত মেহেদি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম), সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল, কার্যকরী সদস্য ইফাজ সহ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম) বলেন, 'সমাজের অবহেলিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের মাঝে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দেওয়াই মেহেদি উৎসবের মূল লক্ষ্য। আজকে যখন আমরা শিশুদের হাসিমুখ দেখেছি, তখন মনে হয়েছে আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগই তাদের বড় আনন্দ এনে দিয়েছে। এই অনুভূতিটাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমরা চাই, এই ভালোবাসার পরিধি আরও বড় হোক, আরও বেশি শিশুর জীবনে পৌঁছে যাক।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।''
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি তাযকিয়া ইনসান বলেন, 'যখন একটি শিশু আগ্রহ নিয়ে তার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং বলে আপু, সুন্দর একটা ডিজাইন করে দিন, তখন সত্যিই মনে হয় আমি শুধু মেহেদী আঁকছি না, বরং তাদের ঈদের আনন্দের অংশ হয়ে যাচ্ছি। তাদের চোখের উচ্ছ্বাস আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করে।'
মেহেদী উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিশু বলেন, 'আমি অনেকদিন ধরে চাইছিলাম ঈদের সময় হাতে মেহেদী পরবো। কিন্তু সুযোগ হয়নি। আজকে আপুরা আমার হাতে খুব সুন্দর ডিজাইন করে দিয়েছে। আমি খুব খুশি এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। ঈদের দিন এই মেহেদী নিয়ে ঘুরবো। আমার খুব ভালো লাগছে।'
অভিভাবকরা বলেন, 'মেহেদী উৎসবের এমন উদ্যোগ শুধু শিশুদের আনন্দই দেয় না, বরং সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।'
স্থানীয়রা বলেন, 'ঈদের আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে এবং এটি অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।'
উল্লেখ্য, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ সহায়তা এবং মানবিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভোলায় আয়োজিত এই মেহেদী উৎসবও তাদের ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগেরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই আয়োজন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, সমাজের প্রতিটি শিশুই সমানভাবে ভালোবাসা, যত্ন ও আনন্দ পাওয়ার অধিকার রাখে। আর একটু আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।