EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীর শত অনুরোধ উপেক্ষা করে সংসার ভাঙলেন স্বামী

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীর শত অনুরোধ উপেক্ষা করে সংসার ভাঙলেন স্বামী

স্বামীর সন্তান লাভের প্রবল বাসনার কাছে হার মানে স্ত্রীর মিনতি। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিল, ছিল প্রত্যাশা ও পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব নিকেশ। কিন্তু মাত্র একটি হিসাব না মেলায় ভেঙে এতদিনের সাজানো নীড়।  

সন্তান সংসারের সেতুবন্ধন হয়। আর সেই সন্তান না হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করেই সাত বছরের দাম্পত্য শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলো বরিশালের রনি খান।

স্ত্রী ইতি আক্তার চাননি এই বিচ্ছেদ। সবার সামনে স্বামীর পা ধরে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন। অনেক অনুরোধ করেন সংসার টিকিয়ে রাখার। কিন্তু স্বামীর সন্তান লাভের প্রবল বাসনার কাছে হার মানে স্ত্রীর মিনতি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বরিশালের হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইতির ভাই জুলহাস সরদার।

সাত বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে ২৫ বছর বয়সী ইতি আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে রনি খানের। রনি পেশায় পোশাকশ্রমিক।

বিয়ের পর থেকে একসঙ্গে সংসার করলেও তাদের ঘরে আসেনি কোনো সন্তান। সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবনে তৈরি হয় টানাপোড়েন।

একপর্যায়ে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন রনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানেই স্বামীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আশায় শেষবারের মতো অনুনয় করেন ইতি।

সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে স্বামীকে তালাক না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানান তিনি। একপর্যায়ে রনির পা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সংসারটি বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে একসঙ্গে থাকার আকুতি জানান। তার চোখের পানি আর অসহায় মিনতিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পুলিশের এসআই আজগর আলীও রনি খানকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো অনুরোধেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সালিশ বৈঠকেই স্ত্রীকে তালাক দেন রনি।

এ বিষয়ে রনি খান স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তার স্ত্রী মা হতে পারবেন না। এ কারণেই তিনি আর একসঙ্গে সংসার করতে রাজি হননি।

এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে সমবেদনা।

সন্তান হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণ জৈবিক ব্যাপার। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এ বিষয়ে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে। সচেতনমহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সন্তান না হওয়ার পেছনে দায় কেন সম্পূর্ণ নারীর ওপর?

কেন শুধু সন্তানের ওপরই একটি সংসার টিকে থাকবে? তাহলে বিয়ে নামক সামাজিক বন্ধনের মূল্য কতটুকু রইলো তাই প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন