নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় উইমেন স্কোয়াডের বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে নির্ভয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ সেশনের আয়োজন করেছে উইমেন স্কোয়াড।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ২০ জন নারী অংশ নেন।
সেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. উম্মে সাইকা নীলা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সার্টিফায়েড সেনসরি ইন্টিগ্রেশন স্পেশালিস্ট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. সংযুক্তা মুবিন, এমবিবিএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডিএমইউ (সৃষ্টি) ও কনসালট্যান্ট।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারীরা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা ও নারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। চিকিৎসকেরা তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেন স্কোয়াডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মীর ফাতেমা আক্তার। তিনি বলেন, জীবনের নানা পরিচয়ে নারীরা প্রতিদিন অসংখ্য দায়িত্ব পালন করেন। কেউ মা, কেউ মেয়ে, কেউ স্ত্রী। কেউ আবার উদ্যোক্তা কিংবা পেশাজীবী। পরিবার ও কর্মক্ষেত্র সামলানোর পাশাপাশি তাঁরা অন্যদের ভালো রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় নিজেদের মনের খোঁজ নেওয়া হয় না।
মীর ফাতেমা আক্তার আরও বলেন, নারীদের হাসিমুখের আড়ালেও জমে থাকে অনেক না বলা গল্প। সেই গল্পগুলো প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা, নিজেদের মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং মনের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করতেই এ বিশেষ আয়োজন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির আরেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহিনা জামান দোলন। তিনি বলেন, অন্যদের ভালো রাখার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নারীরা প্রায়ই নিজেদের ভালো থাকার বিষয়টি ভুলে যান। তবে নিজের মনের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ।
পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুলতানা আক্তার লিজা।
আয়োজকদের মতে, নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও নীরবতা দূর করা জরুরি। অনেক নারী বিচারিত হওয়ার ভয়ে কিংবা নিজের সমস্যাকে গুরুত্বহীন মনে করে মানসিক কষ্টের কথা প্রকাশ করেন না। তাদের জন্য নিরাপদ, আস্থাশীল ও বিচারহীন পরিবেশ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা ও পরামর্শের পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি নারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বন্ধুত্বের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। পাশাপাশি একে অপরের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উইমেন স্কোয়াডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিসর তৈরির এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের নিজেদের কথা বলতে উৎসাহিত করবে এবং মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।