EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

৭ নভেম্বর গণতন্ত্র ও অগ্রগতির মূল প্রেরণা: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

৭ নভেম্বর গণতন্ত্র ও অগ্রগতির মূল প্রেরণা: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
অ অ

ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অগ্রগতির মূল প্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। স্বাধীনতার অন্যতম মূল অঙ্গীকার ছিল গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পথে নানা বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ দেশের মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, জেল-জুলুম ও গুমের শিকার হয়েছে। এমন সংকটময় ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইতিহাসের প্রয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসে।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু দেশের স্বাধীনতা রক্ষাই করেননি, ক্রান্তিলগ্নে দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আহমেদ আযম খান বলেন, জাতীয় জীবনে বিভাজন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপতৎপরতা মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে হবে। একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও জাতীয় সংহতির কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবুল হাশানাত হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ খান।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং অন্যান্য অতিথিরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে এর তাৎপর্য এবং গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় সংহতি প্রতিষ্ঠায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভার আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন