রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে দেশের ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হবে। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় গত ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে। আদেশে অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার, সয়াবিনে ৩০ হাজার, মুগে ৩০ হাজার, মসুরে ২০ হাজার, খেসারিতে ২০ হাজার এবং অড়হর চাষে পাঁচ হাজার কৃষক সহায়তা পাবেন।
আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে। একজন কৃষক পরিবার সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য এ সহায়তা পাবে।
এক বিঘা জমির জন্য ফসলভেদে নির্ধারিত পরিমাণ বীজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফসল অনুযায়ী ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচিতে ১০ জন কৃষককে নিয়ে পুল গঠন করে পাশাপাশি অন্তত ১০ বিঘা জমিতে ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ, কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিপিবদ্ধ এবং উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, উপকারভোগীদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপকরণ বিতরণ ও ফসল কর্তন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পাশাপাশি বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, অর্থ ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যাতে দ্বৈততা না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
