EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কারাগারের নিরাপত্তায় ৭ দফা নির্দেশনা, জোরদার হচ্ছে নজরদারি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

কারাগারের নিরাপত্তায় ৭ দফা নির্দেশনা, জোরদার হচ্ছে নজরদারি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে কারা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার আলোকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি।

কারাগারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও প্রচলিত নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে নিয়মিতভাবে কারা অধিদপ্তরের কাছে মতামত জমা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দেশের বিভিন্ন কারাগার পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সাত দফা নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনায় প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগ করতে হবে। পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষের ব্যবস্থা না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তায় কোনো ধরনের শৈথিল্য রোধে দায়িত্বস্থল থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর। কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, কোনো প্রহরী বা নিরাপত্তাকর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব বা তা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

নির্দেশনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ বারবার পাওয়া যায়, এমন নিরাপত্তাকর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁদের বদলি করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় প্রহরীদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তাচৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে দ্রুত এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন