EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সবাইকে সমানভাবে আইনি সেবা দিতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ) প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করতে হবে। ভয়ভীতি ও পক্ষপাত এড়িয়ে সবাইকে আইনি সহায়তা দিতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করেই তাদের হৃদয় জয় করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পুলিশকে দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নতুন আইন তৈরি, জনবল বাড়ানো, যানবাহন কেনা, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলছে। 

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা বাধা পেরিয়ে তাঁরা দেশসেবার পেশায় যোগ দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁদের কাজ করতে হবে। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অন্যায় করা যাবে না।

তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখলে চলবে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে।

বর্তমান সময়ের অপরাধের ধরন তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদক, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের সময় মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা পক্ষপাত করা যাবে না। পেশিশক্তি নয়, দক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবিধান ও আইন মেনে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে দায়িত্বে অবহেলা, অনৈতিক কাজ ও শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সেরা ফল করা প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন।

২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে বেস্ট সার্জেন্ট হয়েছেন মোহা. ওমর ফারুক। বেস্ট একাডেমিক হয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ হয়েছেন সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার হয়েছেন মোহাঃ আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ) থেকে বেস্ট ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বেস্ট একাডেমিক হয়েছেন মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ হয়েছেন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শ্যুটার হয়েছেন মো. কামাল গনি।

এবারের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মজীবন শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ১৬২ জন রয়েছেন।

আরও পড়ুন