EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা’

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ এএম

‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা’

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সরকার বর্তমান বিদ্যুৎ গ্রিডকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

একই সাথে বর্তমান বিদ্যুৎ গ্রিডটি বহুমুখী উৎস (পারমাণবিক, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য) থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে মোটেও আধুনিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এ ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় মাঠে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি)।


বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়েছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা ‘স্পেশাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল’ তৈরি করছি, যা ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।’

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গতি বাড়াতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরঞ্জামের ওপর থেকে শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিন এনার্জি নিয়ে অতীতে শুধু আলোচনার টেবিল গরম করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছে। এটি আগামী সংসদ অধিবেশনে আইন আকারে পাস করা হবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির পথে দেশের সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে অন্যতম বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

জ্বালানি খাতের তীব্র সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনে লোকসানে তা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে, যার অন্যতম কারণ বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া।

আমদানির ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি জানান, জ্বালানির জন্য এককভাবে কাতারের ওপর নির্ভরশীল থাকায় সেখানে বোমা হামলার পর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, নিরুপায় হয়ে ১০-১২ ডলারের স্পট এলএনজি বাংলাদেশকে চড়া মূল্যে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩০ ডলারে কিনতে হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক ও একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৬ শতাংশই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ মূলভাবকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসবটি চলবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জেটনেট-বিডি এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মেলায় দেশ-বিদেশের ১ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। যার মূল লক্ষ্য উৎসব শেষে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের ফার্স্ট কাউন্সিলর ও গ্রিন ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টমেন্টস বিভাগের প্রধান টবিয়াস বিয়ারম্যানসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন