কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, কসবা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে ঘটনার তিন দিন পর থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করেন শিশুটির মা। অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে গ্রামের বাজার থেকে সয়াবিন তেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে হাত ও মুখ চেপে নিজের দোকানে নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ি ফিরে শিশুটি মাকে ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা গ্রামের সাহেব-সর্দার ও অভিযুক্তের আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ ও হুমকির কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেখানে ১২ জন সাহেব-সর্দারকে নিয়ে একটি জুরি বোর্ড গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এতে রাজি না হয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে অভিযুক্তসহ প্রতিপক্ষের কয়েকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও সাহেব-সর্দাররা বসেছিলেন। তবে ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইনেই হবে। অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে রবিবার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে কসবা থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ডা. শায়লা শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের করা মামলা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
