তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া উচ্চকক্ষের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে এবং সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উচ্চকক্ষ বহাল থাকলে, সেই উচ্চকক্ষের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট উচ্চকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিকল্প হিসেবে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাবও এসেছে। সেই স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুই পক্ষের সম্মতিতে অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাবও এসেছে।
কমিটির সভাপতি বলেন, এসব প্রস্তাব কমিটির আলোচনায় তুলে ধরা হবে। সেগুলোর পাশাপাশি আরও প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে পরে বিলের খসড়া তৈরি করা হতে পারে।
বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। সংবিধানে সর্বজনগ্রাহ্য সংশোধনীর খসড়া তৈরি, সার্বিক সংস্কার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা মতামত ও পরামর্শ দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ওপর বিচারিক পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা, বিচারক নিয়োগের আইন প্রণয়ন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়েও মতামত এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আগের সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা হয়নি। কারণ, সেখানে অনেক ভুলত্রুটি ছিল।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা শিথিল করার প্রস্তাবও এসেছে বৈঠকে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা ও অনাস্থা ভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির বাইরে অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভিন্নমত জানানোর অধিকার বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন ও কর্মপরিধি নির্ধারণ এবং সেগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কমিশনগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। অন্তত ছয়টি সংস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন, এমন প্রস্তাবের কথাও জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংকলনের কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা এবং তাদের মতামত নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।