EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তারেক-মোদি বৈঠক ঘিরে নতুন আশায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে দুই সরকার কোন বিষয়ে আলোচনা করে এবং কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ওপর

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

তারেক-মোদি বৈঠক ঘিরে নতুন আশায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। নভেম্বরে সফরের সম্ভাবনা থাকলেও এখনো তারিখ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরই সম্ভাব্য বৈঠকের সাফল্য নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লির মাসিক ম্যাগাজিন ইন্ডিয়ান এম্পায়ার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে দুই সরকার কোন বিষয়ে আলোচনা করে এবং কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ওপর।

নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দেশে ফেরার কয়েক দিন পর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তার অবস্থান শক্তিশালী করলেও বংশানুক্রমিক রাজনীতি ও অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তাকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ বিভক্ত দেশ পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।

দিল্লির বার্তা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা পৌঁছে দেন। নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরও মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও বিএনপির বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতে নিজস্ব স্বার্থ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দেয়। এ ক্ষেত্রে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সাবেক ভারতীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে সম্পর্কের প্রতি দিল্লির নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার সংকেত হিসেবে দেখছে প্রতিবেদনটি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে ভারতের অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন নিয়োগের অনুমোদনের খবর পাওয়া গেলেও দায়িত্ব গ্রহণের সময় নিশ্চিত হয়নি।

সম্ভাব্য নভেম্বরের সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার ত্রিবেদী বলেছেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে বাস্তব অগ্রগতি জরুরি

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হলে পরিবহন, বাণিজ্য, জ্বালানি, ভিসা ও মানুষের যাতায়াতে দুই দেশই সুবিধা পেতে পারে। তবে এর জন্য পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক বাধা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের উদ্বেগ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো দেশই অপর পক্ষের কাছে সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না। বরং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ, পারস্পরিক ছাড় এবং বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানো জরুরি।

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক তাই কেবল একটি ছবি বা আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের বিষয় নয়। দুই সরকার যদি অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবেই এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আরও পড়ুন