পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে নতুন তথ্য দেয়নি সৌদি আরব
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এখনো নতুন কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির সরকার। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি জানান, সৌদি আরবের কারাগারগুলোতে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকিদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।’
নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিহত শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে।’
ওই নথি অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কিছু জানায়নি। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।
নথিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা।
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়। সেখানে নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তবে তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ও সুইটি সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। এর পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা নারী কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবে ওই তালিকায় তাঁদের কারও সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।
এ ছাড়া সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

