EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

‘আমাদের পরিচয় ধর্মীয় নয়, আমরা বাংলাদেশি’: তারেক রহমান

ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ পিএম

‘আমাদের পরিচয় ধর্মীয় নয়, আমরা বাংলাদেশি’: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

অ অ

ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের অভিন্ন জাতীয় পরিচয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এই দেশে জন্মেছি, এই দেশে বড় হয়েছি, আমরা এই দেশের নাগরিক। আমরা মুসলমান বা হিন্দু যা-ই হই না কেন, এটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।”

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে জনগণকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমাদের পরিচয় ধর্মের পরিচয় নয়, আমাদের একমাত্র পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশ সবার, সব নাগরিকের।

নিজের নির্বাসিত জীবনের কথা স্মরন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ টি বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিলো। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, বিদেশে আমি সংখ্যালঘু ছিলাম। কাজেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বিষয় না। বিষয় একটি ই আপনি বাংলাদেশি।”

মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্মের জীবনদানের কথা স্মরন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলো। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা এই প্রিয় মাতৃভূমিকে ছিনিয়ে এনেছিলো। যুদ্ধে কয়েক লক্ষ মানুষ শহীদ হয়ে যায়। সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু।”

"আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। আমরা দেখেছি, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলো,” তিনি বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় গনতন্ত্র রক্ষা দেশের মানুষের আত্মদানের কথাও স্মরন করেন। এসময় তিনি জুলাই গণঅভুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, “সোয়া দুই বছর আগের কথা, জুলাই - আগষ্ট মাস। এদেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সেদিন সমগ্র বাংলাদেশে রাজপথে বেড়িয়ে এসেছিলো।” 

“সেদিনো কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মীটা কোন ধর্মের,” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সরকারকে যারা ভোট দিয়েছে তাদেরও সরকার হতে চাই। যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই।  

দুর্গাপূজার মহানবমীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বজনীন উৎসবের বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার এক দিনে দেশের তিন বিভাগে সফরের শেষ গন্তব্য চট্টগ্রামে যান তিনি। মঙ্গলবার রাত ৭টা ৪০ মিনিটে একটি সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌছান তিনি।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরেই তিনি সড়ক পথে ১০৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। 

এদিকে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরাসহ চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের নেতারা।

আরও পড়ুন