দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার: প্রিন্স
ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ফ্যাসিবাদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে এ বছর স্মরণকালের সর্বোচ্চসংখ্যক মণ্ডপে মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। পূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার। নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ফলেই এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভক্ত, পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাক-ঢোল ও শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে এবং ফুলের মাধ্যমে এমরান সালেহ প্রিন্সকে বরণ করে নেন ভক্ত ও পূজারিরা।
উপস্থিত ভক্ত ও পূজারিদের উদ্দেশে বক্তব্যে এমরান সালেহ প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নিজের পক্ষ থেকে সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশজুড়ে এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতে নয়, জেলা পর্যায়েও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন। এটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আজ প্রাণ খুলে আনন্দ করছেন, উৎসব উদ্যাপন করছেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালন করছেন। বিএনপি সরকার নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করেছে। এসব উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই সম্প্রীতি ও ঐক্য অটুট এবং শক্তিশালী করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে দেশ পুনর্গঠনে সবার সহযোগিতা করা উচিত। তার উৎসাহ ও নির্দেশনায় এবার মহাসমারোহে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এবারের দুর্গাপূজায় জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, পূজা উদ্যাপনে সহযোগিতার জন্য তাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। তাদের এই নির্লিপ্ততা রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রিন্স বলেন, জামায়াতের কর্মকাণ্ডে বারবার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এবার এনসিপিও তাদের জোটের শীর্ষ দলের নীতি অনুসরণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট করা উচিত। সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার, উৎসব ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। শুধু মুখে সম্প্রীতির কথা বললে হবে না, বাস্তব আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মিজানুর রহমান, উত্তম কুমার বাবুল, আসাদুজ্জামান আসিফ, নাঈমুর আরেফীন পাপন, আনোয়ার হোসেন,সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।