EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
অ অ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তারা সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এ লক্ষ্য অর্জনে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষ মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন। একইভাবে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সরকার সব মানুষের সরকার হতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে চায়। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদেরও সরকার হতে চাই; যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একনেক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই— দয়া করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণ যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অতীতের রাজনীতির পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সম্প্রীতি ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।

আরও পড়ুন