ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন মাহ্দী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাকের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জবাবদিহি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
এদিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
পোস্টে মাহ্দী আমিন ইশরাককে ‘প্রিয় ভাই’ ও ‘রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইশরাকের ভূমিকা এবং তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য সবার জানা।
তার ফেসবুক পোস্ট নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
এক সপ্তাহের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছি। এখান থেকেই জানতে পারলাম, প্রিয় ভাই ও রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ইশরাক হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে অনেক স্মৃতি ও পথচলা। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে তাঁর ভূমিকা ও গৌরবোজ্জ্বল পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। পাশাপাশি বিএনপির ইয়ুথ এনগেজমেন্ট, ডিপ্লোমেটিক যোগাযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেমকে তিনি যেভাবে নিজের বিশ্বাসে ধারণ করেন, তা সত্যিই অনন্য।
তাঁর সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এত আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সেটির লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই। প্রতিমন্ত্রীর পদ বা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আত্মত্যাগকে পরিমাপ করা যায় না। সাময়িক যেকোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান অনেক বেশি অর্থবহ।
জনগনের সরকারের বার্তা এখানে অনেকটাই স্পষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন তরুণ নেতার সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগের বাস্তবায়নেও যদি কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে, সেখানেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথযাত্রায় সামনের দিনগুলোতেও, সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে দায়বদ্ধতার ধারা বজায় থাকবে।
ইশরাক হোসেনের এই ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব পদত্যাগ মোটেই কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধনী ও গণমানুষের ভালোবাসায় সামনে তাঁর জন্য আরও বৃহত্তর ও গণমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে, ইনশাআল্লাহ।