গ্রীষ্মের আগেই ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ‘বিশেষ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) স্থাপনের পরিধি ও সুযোগ বাড়াতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিসভার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের অতি-নির্ভরশীলতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বিপুল ভর্তুকির চাপ হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।
এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। যার জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত এই লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অর্থাৎ ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সচ্ছলতা বিবেচনায় নিজস্ব অর্থায়নে অর্থাৎ ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এতদিন ওপেক্স মডেলে তৃতীয় পক্ষের (সার্ভিস প্রোভাইডার) মাধ্যমে সোলার স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি (১৫ বছর) বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া বাবদ বিদ্যুতের শেয়ারিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি বিধিবিধান ছিল না।
একইভাবে ক্যাপেক্স মডেলে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও দেশের প্রচলিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-তে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছিল না।
এই আইনি শূন্যতা ও জটিলতা দূর করতেই সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই বিশেষ অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং (আইনি যাচাই-বাছাই) সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দেশে পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।