EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মাদকপ্রবণ জেলায় অর্থ পাচার মামলায় জোর দিচ্ছে ডিএনসি

মাহবুব আলম, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

মাদকপ্রবণ জেলায় অর্থ পাচার মামলায় জোর দিচ্ছে ডিএনসি
অ অ

মাদক কারবারের সঙ্গে অর্থ পাচারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ২০১২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করার ক্ষমতা দেয় সরকার। এরপর থেকে অধিদপ্তরটি কিছু মামলা করেছে। এবার মাদকপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত জেলাগুলোতে এ ধরনের মামলায় জোর দিয়েছে ডিএনসি।

সম্প্রতি অধিদপ্তরের এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‌‘মাদকপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত জেলাগুলোর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা রুজু করা হবে। তবে অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

ডিএনসির তালিকায় দেশের সবচেয়ে মাদকপ্রবণ জেলা ২৪টি। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পাঁচটি জেলার নয়টি থানায় শীর্ষ কয়েকজন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেসব জেলা মাদকপ্রবণ এবং যেখানে অর্থ পাচার মামলা নেই, কিন্তু মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, সেখানে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা দায়েরের লক্ষ্যে কার্যকর তদন্ত কার্যক্রম চালাতে হবে।

কর্মকর্তাদের প্রতি প্রতিটি বিভাগে অন্তত দুই থেকে তিনটি অর্থ পাচার মামলার তদন্ত শুরু বা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় এর অগ্রগতি জানাতে হবে।

মাদকের মামলায় আদালত থেকে কারবারিরা প্রায়ই জামিন পান। অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা করা গেলে মাদকের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

ডিএনসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অর্থ পাচার–সংক্রান্ত প্রতিটি মামলার সব কার্যক্রম তদারক করতে হবে। কোনো বাধা এলে তা উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত মামলা পর্যবেক্ষণ করবেন অতিরিক্ত পরিচালকেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেইলি সানকে বলেন, মাদকের মামলায় আদালত থেকে কারবারিরা প্রায়ই জামিন পান। অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা করা গেলে মাদকের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ওই কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত ও যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহের পরই অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

মামলার বর্তমান অবস্থা

ডিএনসির সূত্র জানায়, অধিদপ্তর এখন ২৭টি অর্থ পাচার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান শেষ হলে মামলা করে তদন্ত করা হবে। এর বাইরে চারটি মামলা বিচারাধীন, পাঁচটি তদন্তাধীন। 

বিচারাধীন চার মামলার অভিযোগপত্রে প্রায় ১০০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তথ্য আছে। 

মামলাগুলো হয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় ২০১৮ সালের ১১ জুন, পাহাড়তলী থানায় ২০১৯ সালের ১ মে, ঢাকার ওয়ারী থানায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং রংপুরের তাজহাট থানায় ২০২৩ সালের ৯ মার্চ।

তদন্তাধীন পাঁচ মামলার মধ্যে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা হয়েছে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় দুটি মামলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ও ৮ ফেব্রুয়ারি। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানায় মামলা হয়েছে চলতি বছরের ১৫ মার্চ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৬ জুন।

যে ২৪ জেলা মাদকপ্রবণ

ডিএনসির তালিকায় দেশের সবচেয়ে মাদকপ্রবণ জেলা ২৪টি: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা।

এর মধ্যে ১৮টি জেলার ১০৫টি এলাকাকে মাদক পাচারের প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে অধিদপ্তর।

পাচারের প্রধান পথগুলো

দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাদক পাচারের প্রধান পথগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গা ও পলাশপোল; যশোরের বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর ও শাশা; চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর এবং মেহেরপুরের দারিয়াপুর ও বুড়িপোতা প্রধান পথ।

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে রাজশাহীর মনিগ্রাম, চারঘাট, সরদহ, গোদাগাড়ী ও বাঘা দিয়ে পথ গেছে। পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট এলাকায় তৎপরতা বেশি। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিকে বলা হয়েছে প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হিলিসহ পথের ঘন নেটওয়ার্ক রয়েছে।

পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে আছে সিলেটের জকিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার করিমপুর, কসবা ও আখাউড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও বিবিরবাজার এবং ফেনীর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।

আরও উত্তরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী ও নাগেশ্বরী এবং লালমনিরহাটের আদিতমারী, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী ঝুঁকিতে আছে। শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও হালুয়াঘাটও এর বাইরে নয়।

দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, উখিয়া, বালুখালী ও নয়াপাড়াসহ বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন