প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন আশাব্যঞ্জক: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ এএম
ছবি: মুশফিকুল ফজল আনসারীর ফেসবুক পোস্টে থেকে নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শনকে আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসন ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সমস্যা সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ মানুষকে নাড়া দিয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়ে অব্যবস্থাপনার জবাব চেয়েছেন এবং তা সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সরকারের এ কর্মতৎপরতা আশাব্যঞ্জক এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
শিশু হাসপাতালে এক চিকিৎসকের নিজের কক্ষে ধূমপানের ঘটনাকে দায়িত্ববোধের চরম অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, যেখানে শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
এ ছাড়া কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সাত দিন এবং আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাঁর মতে, এ ধরনের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দেয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সেবার মান নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা নিজেদের পদমর্যাদা, বাড়ি-গাড়ি ও পোশাক-পরিচ্ছদের প্রতি যত্নশীল থাকলেও তাঁদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও সমান মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের সুসজ্জিত অফিসকক্ষের বাইরেও একটি বৃহত্তর কর্মপরিবেশ রয়েছে। সেখানে কর্মীদের কাজের পরিবেশ কেমন, সেবাপ্রার্থীদের বসার ব্যবস্থা আছে কি না এবং সাধারণ শৌচাগারগুলো পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য কি না, সেসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা জরুরি। এ জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত নজরদারি।
প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, পথের অসহায় কুকুর-বিড়ালকে আঘাত না করা এবং সম্ভব হলে তাদের খাবার ও পানি দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রশংসনীয়। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি মমতাশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পাশাপাশি অসহায় প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতাও আমাদের আচরণে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা কামনা করে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, এ তৎপরতা প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গায় আরও সচেতন ও সক্রিয় করে তুলুক। এক দিনের পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এ ধরনের তদারকি সংশ্লিষ্ট সবার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।