ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশই বেকার: আইএমএফ
স্কিল গ্যাপ ও এআইয়ের চাপে শ্রমবাজার ঝুঁকিতে, আবার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ায় তৈরি হচ্ছে প্রবৃদ্ধির সুযোগ...
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এশিয়ার শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করেছে। ডিগ্রি অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ।
আইএমএফ বলছে, দেশে সার্বিকভাবে তরুণদের বেকারত্ব ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে থাকলেও উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ কম শিক্ষিতদের চেয়ে শিক্ষিত তরুণদের বেকার থাকার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া কর্মরত উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় ৫০ শতাংশ নিজেদের যোগ্যতার চেয়ে নিচের স্তরের কাজ করছেন, যা ছদ্ম বেকারত্ব নামে পরিচিত। সংস্থাটির মতে, শিক্ষাব্যবস্থার জ্ঞান ও শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে ‘স্কিল গ্যাপ’ এর অন্যতম কারণ।
প্রতিবেদনে অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাকে শ্রমবাজারের বড় দুর্বলতা বলা হয়েছে। এই খাতে আয়ের স্থায়িত্ব, চাকরির নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ারের সুযোগ কম।
তবে সম্ভাবনার কথাও বলেছে আইএমএফ। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়বে। এই জনগোষ্ঠীকে সময়মতো উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগাতে পারলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে দ্রুত মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আইএমএফ জানায়, যেসব পেশা এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে আছে, সেগুলোতে নতুন নিয়োগের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে প্রযুক্তি ও এআই-দক্ষ কর্মীর বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দক্ষ করে তোলা এখন জরুরি। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রমবাজারের সঙ্গে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় দরকার।