তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের পর নেদারল্যান্ডসের আগ্রহ
স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
চীনের পর এবার বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সংবাদ সংস্থার (বাসস) বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, সিওয়ার্ডসমা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও জলবায়ু-সহনশীল নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পানিসম্পদ খাতে সম্পর্ক সম্প্রসারণের জন্যও বর্তমান সময়কে উপযুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলপ্রবাহের পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, নদী খনন ও প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, টিআরসিএমআরপি বাস্তবায়নে চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কাজ এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরাও সহযোগিতা করবেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনের সম্পৃক্ততার উদ্দেশ্য ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা নয়; বরং নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা মোকাবিলা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো এবং তিস্তাপারের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
চীনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের আগ্রহের ফলে নদী ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।