রড চুরির ঘটনায় বসুন্ধরার নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে আটক ৬, পুলিশের কাছে হস্তান্তর
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন প্রকল্প থেকে রড চুরির ঘটনায় ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করেছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও নজরদারি জোরদার করে চুরিতে ব্যবহৃত গাড়ি শনাক্তের পর তাদের আটক করা হয়। পরে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর গেটে তাদের আটক করা হয়। পরদিন ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশংসা পেয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এক বাসিন্দা।
মঙ্গলবার এমডি রাকিব নামের ওই বাসিন্দা ফেসবুকে লেখেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আমার কাকার প্রজেক্ট থেকে রড চুরি হয়েছিল। গতকাল (সোমবার) রাতে চোরদের হাতেনাতে ধরে তারা তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে আপনাদের এই তৎপরতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা সিকিউরিটি টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন!’
ওই পোস্টের মন্তব্যেও বসুন্ধরার নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশংসা করেছেন অনেকে। আসাদুজ্জামান মুন্না নামের একজন লেখেন, ‘সত্যিই গার্ডগুলো খুব সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। এরা পুলিশের থেকেও বেশি নিরাপত্তা প্রদান করে।’
আরেকজন লেখেন, ‘বসুন্ধরা এলাকায় সকল প্রশাসনিক ভাইদের আচার-ব্যবহার অনেক ভালো। ওরা সবাই নিঃস্বার্থে সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লক থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্য বিপুল পরিমাণ রড চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরিতে ব্যবহৃত গাড়ি ও সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। তাঁদের পুনরায় আটক করতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সব নিরাপত্তা ফটকে গাড়িটির নম্বর নোট করে রাখতে বলা হয়।
পরে সোমবার রাতে ওই চক্রটি আবারও চুরির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করলে ৬ নম্বর গেটে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীরা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকসহ ছয়জনকে আটক করেন।
জিডিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও নির্মাণাধীন প্লটে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আগের কয়েকটি চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁদের ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিন সদস্যকে আটক করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে আটক ব্যক্তিদের ও উদ্ধার করা আলামত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভাটারা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ছাড়া গত আগস্টে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গোলাম রাফি খান নামের একজনকে আটক করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ছিনতাইয়ের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বসুন্ধরা এলাকায় হেঁটে যাওয়া এক নারীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ছবিও সংগ্রহ করা হয়। আটকের পর গোলাম রাফি খান ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন বলে সূত্র জানায়। এ সময় তিনি নিজেকে ইয়াবাসেবী বলেও দাবি করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।