EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

সিদ্ধিরগঞ্জে ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
অ অ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আমদানি করা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) অধিদপ্তরের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। বন্ড সুবিধায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পেট ফিল্ম, কৃত্রিম চামড়া, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করত প্রতিষ্ঠানটি। এসব কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে রপ্তানি দেখানো হতো।

অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদনের তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে অসংগতি পান কর্মকর্তারা। সংগৃহীত বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঘোষিত উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কারখানায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ বা গ্যাসচালিত উৎপাদনব্যবস্থার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, কারখানায় উৎপাদনসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী ব্যবস্থাও সেখানে দেখা যায়নি।

অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) নিয়ে এবং ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে রপ্তানি দেখালেও বাস্তবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে।

আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, ইউপি ও অন্যান্য নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে অধিদপ্তরের প্রিভেনটিভ দল। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এ পাঠানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে অধিদপ্তরের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন