চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, বিদ্যমান জটিলতা দূর করা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।
বৈঠকের সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরসহ তিনটি বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনা করে কমিটি। প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির বিষয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তিন বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য পণ্য ও যানবাহন নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।